কিভাবে ভালো হোস্টিং নির্বাচন করবেন
হোস্টিং কেনার আগে যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেনআপনি যদি অনলাইনে আপনার ব্যবসার উপস্থিতি জানান দিতে চান তাহলে আপনার অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন থাকা দরকার। আর এই ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এর জন্য সবার আগে আপনার যা দরকার তা হচ্ছে একটি ভালো মানের ওয়েব হোস্টিং। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ওয়েব হোস্টিং টা আসলে কি? হোস্টিং হলো একটি অনলাইন সেবা, যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো (যেমন HTML, CSS, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি) ইন্টারনেটে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য একটি সার্ভারে রাখা হয়। যখন কেউ ব্রাউজারে আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখে, তখন সেই হোস্টিং সার্ভার থেকে তথ্যগুলো ব্যবহারকারীর ডিভাইসে পৌঁছে যায় এবং ওয়েবসাইটটি দেখানো হয়। হোস্টিং সার্ভার সবসময় চালু থাকে, যেন যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করতে পারে। হোস্টিং কোম্পানিগুলো এই সার্ভার পরিচালনা করে এবং নিরাপত্তা, গতি ও নিরইচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করে। সঠিক হোস্টিং বেছে নেওয়া ওয়েবসাইটের গতি, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই পর্যায়ে জেনে নিন ওয়েব হোস্টিং কত প্রকার এবং আপনার জন্য কোনটি ? বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরণের ওয়েব হোস্টিং ব্যবহার করা হয়। কাজের উপর ভিত্তি করে ওয়েব হোস্টিং মূলত ৫ ধরনেরশেয়ার্ড ওয়েব হোস্টিংঃ এই হোস্টিং এ সাধারণত অনেক ব্যবহারকারী একটি সার্ভার ব্যবহার করে থাকে। সার্ভারের প্রায় সকল রিসোর্স ই ব্যবহারকারীরা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে থাকে। যার কারণে এর নাম শেয়ার্ড হোস্টিং। এটি সকল প্রকার প্রফেশনাল হোস্টিং এর মধ্যে সবথেকে সস্তাকাদের জন্য উপযোগীঃ ভিপিএস ওয়েব হোস্টিংঃ ভিপিএস হোস্টিং হচ্ছে একটা সার্ভারের মধ্যে একাধিক ভার্চুয়াল সার্ভার তৈরি করে প্রত্যেক ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা একটি হোস্টিং পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যবহারকারীদের থেকে বেশ আইসোলেটেড বা পৃথক থাকেন। এজন্যই এই হোস্টিং এর নাম ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার। এটি সাধারণ লিনাক্স ও উইন্ডোজ হয়ে থাকে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা কমান্ড লাইন থেকে ব্যবহার করতে হয়। যার কারণে যারা নতুন তাদের জন্য এর সেটাপ ও রক্ষণা বেক্ষণ বেশ কঠিন। কাদের জন্য উপযোগীঃ ডেডিকেটেড ওয়েব হোস্টিংঃ ডেডিকেটেড হোস্টিং হচ্ছে একজন ব্যবহারকারীর জন্য নির্ধারিত একটি সার্ভার । প্রফেশনাল হোস্টিং সার্ভিসের মধ্যে এটা সবথেকে দামি ক্যাটাগরির হোস্টিং। কাদের জন্য উপযোগীঃ ক্লাউড ওয়েব হোস্টিংঃ ক্লাউড হোস্টিং হলো এমন একটি হোস্টিং সেবা, যেখানে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনের ডেটা একক কোনো সার্ভারে না রেখে, একাধিক সার্ভার বা “ক্লাউড সার্ভার” এ সংরক্ষণ করা হয়। এই সার্ভারগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকে এবং একসাথে কাজ করে। ফলে একটি সার্ভারে সমস্যা হলে অন্য সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে, যার ফলে ওয়েবসাইট সচল থাকে এবং দ্রুত লোড হয়। এই হোস্টিং একটি প্রিমিয়াম মানের হোস্টিং । এবং বেশিরভাগ বড় বড় কোম্পানী এই হোস্টিং আজকাল ব্যবহার করে থাকে। কারণ এখানে ব্যবসা স্কেল করার সাথে সাথে সার্ভার ও স্কেল করা যায়। এটি অনেক বেশি নিরাপদ, স্কেলাবল এবং আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এটিতে পে অ্যাস ইউ গো মডেলের একটি পেমেন্ট সুবিধা আছে যা ব্যবহারকারী যা ব্যবহার করে ঠিক সেটুকুর জন্যই তাকে চার্জ করে। স্টাটিক ওয়েব হোস্টিংঃ উপরের উল্লেখিত হোস্টিং ছাড়াও কিছু ফ্রি হোস্টিং আছে যেগুলো খুব একটা প্রচলিত না বাট এগুলোও অনেকে ব্যবহার করে যেমন, গিটহাব স্টাটিক পেজ হোস্টিং। এখানে ডায়নামিক ওয়েবসাইট সাধারনত হোস্ট করা হয় না । একজন হোস্টিং এক্সপার্ট এর সাথে সরাসরি কথা বলুন আপনি সরাসরি একজন হোস্টিং এক্সপার্ট এর সাথে বলতে এই নাম্বারে(01518495102) যোগাযোগ করুন । কল করুন অথবা হোয়াটস অ্যাপ এ টেক্সট করুন । একজন হোস্টিং এক্সপার্ট আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য সবথেকে ভালো হোস্টিং নির্বাচন করতে সহায়তা করতে পারেন। আপনার জন্য কোন হোস্টিং? আপনি হোস্টিং কিনতে চাচ্ছেন, তাহলে প্রথমে আপনাকে নিজেকেই নিচের প্রশ্নগুলো করতে হবে বা বিষয়গুলো আপনার বিবেচনায় রাখতে হবে। এসব মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে হোস্টিং কিনলে আপনি আপনার বিজনেস এর জন্য সেরা হোস্টিং বাছাই করতে পারবেন ।১) বাজেট কতঃ আপনার বাজেট যদি কম হয় তাহলে আপনার জন্য সেরা হোস্টিং হচ্ছে শেয়ার্ড হোস্টিং। যেমন জিরক্স এর একটি ভালো মানের শেয়ার্ড হোস্টিং এর জন্য আপনার এক বছরে খরচ করতে হবে মাত্র ১৪৯০ টাকা এবং রিনিউ ফি ও ১৪৯০ টাকা ২) কেমন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট ডেইলি ভিজিট করতে পারেঃ আপনার ভিজিটর যদি কম হয় তাহলে আপনার জন্য সেরা অপশন শেয়ার্ড হোস্টিং। আর আপনার যদি ডেইলি ৩ হাজার এর বেশি ভিজিটর হয় তাহলে আপনাকে ভিপিএস,ক্লাউড অথবা ডেডিকেটেড হোস্টিং নিতে হবে । ভালো মানের একটি শেয়ার্ড হোস্টিং ডেইলি ৫০০ ব্যবহারকারী সামলাতে পারবে। তবে জিরক্স এর আধুনিক হার্ডওয়্যার এর তৈরি সার্ভার ডেইলি ১০০০ থেকে ১৫০০ ব্যবহারকারী অনায়াসেই সামলাতে পারবে । ৩) নিরাপত্তা কেমন চাচ্ছেনঃ বাজেট কম হলে নিরাপত্তাকে একটু কনসিডার করতেই হবে। নিরাপত্তার জন্য সবথেকে ভালো হোস্টিং হচ্ছে ভিপিএস, ক্লাউড ও ডেডিকেটেড হোস্টিং। তবে ভালো মানের শেয়ার্ড হোস্টিং এও কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনী তৈরি করা হয় ক্লায়েন্ট এর ওয়েবসাইট এর নিরাপত্তার জন্য। যেমন জিরক্স ব্যবহার করে ইমিউনিফাই ৩৬০, ক্লাউড লিনাস্ক ও লেটেস্ট সি প্যানেল যা আপনার সাইটের সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে । ৪) আপটাইমঃ হোস্টিং এর প্রধান কাজ ই হছে আপনার সাইটকে সার্বক্ষনিক অনলাইনে অ্যাক্সেসিবল রাখা। কিন্ত কোন কারণে হোস্টিং সার্ভারটি ডাউন হয়ে গেলে বা কোনো গোলযোগের কারণে এটি নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আপনার সাইটটি আর কেউ ভিজিট করতে পারবে না। মোটামুটি সব সার্ভারের ই ডাউন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব কোম্পানী ই এটা কমিয়ে আনার ট্রাই করে। ভালো কোম্পানীগুলোর আপটাইম ৯৯% থেকে শতভাগও হতে পারে। যেমন জিরক্স এর আপটাইম ৯৯.৯৯% ৫) স্পীডঃ আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরের কাছে দ্রুত আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বা ওয়েবপেইজটি পৌছে দিতে আপনার সার্ভারের স্পীড ভালো হতে হবে। স্পিড অনেক ফ্যাক্টরের উপরের ডিপেন্ড করে। স্পিডকে আপনি আরো বৃহতভাবে পারফর্মেন্স বলতে পারেন। সার্ভারের স্পীড প্রাথমিকভাবে ডিপেন্ড করে সার্ভারের হার্ডওয়্যার এর উপর। যেমন র্যাম এর অনেক প্রকারভেদ আছে। DDR3, DDR4, DDR5। এখন আপনার সার্ভার যদি DDR5 এ তৈরি হয় তাহলে এটি অন্যান্য অপশন থেকে বেশি ফাস্ট । আবার সার্ভার স্পীড এর অন্যতম ফ্যাক্টর হচ্ছে কেমন ড্রাইড দিয়ে সার্ভারটি তৈরি। বর্তমানে NVME SSD হচ্ছে সবথেকে ফাস্ট অপশন। এর পরে আছে আপনার জন্য কি পরিমাণ রিসোর্স এর লিমিট দেয়া আছে। যেমন সাধারণ একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সঠিকভাবে চালাতে ১ কোর সিপিএউ এবং ৫১২ থেকে ১ জিবি র্যাম প্রয়োজন। তবে যদি ভারী কাজ করা হয় যেমন পেইজ বিল্ডার লাইক ইলেমেন্টর, বিভার, বেকারি, এগুলো ব্যবহার করেন তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই ১জিবি র্যাম এ হবে না। আর এজন্য জিরক্স দিচ্ছে প্রত্যেক সি প্যানেল এর জন্য ২ জিবি র্যম ও ২ কোর সিপিএউ । যা দিয়ে আপনাই ওয়ার্ডপ্রেস এর যেকোনো প্লাগিন রান করতে পারবেন । এরপরে আছে সার্ভার এর সফটওয়্যার কম্বিনেশন। যেমন বর্তমানে প্রচলিত সার্ভার সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে সবথেকে ভালো লাইটস্পীড এন্টারপ্রাইজ। এটা অ্যাপাচি ও ইঞ্জিন এক্স এর থেকে অনেক ফাস্ট । এটার ডিফল্ট সার্ভার সাইড ক্যাশিং এর
